লাইলাতুল কদর সম্পর্কে ২৭টি সহিহ হাদিস
Join Our Official Telegram Channel
লাইলাতুল কদরের ২৭টি সহিহ হাদিস জেনে নিন। ফজিলত, নামাজ, দোয়া ও লক্ষণ নিয়ে সহিহ হাদিস। হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এই রাতের আমল কিভাবে করবেন জেনে নিন। ও বিশেষ আমলসহ শবে কদরের সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন এখনই।
লাইলাতুল কদর সম্পর্কে ২৭টি সহিহ হাদিস আর্টিকেলটি পড়ে যা যা জানতে পারবেনঃ
১। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে সহিহ হাদিস
২। লাইলাতুল কদরের ফজিলত নিয়ে হাদিস
৩। লাইলাতুল কদরের লক্ষণ সম্পর্কে হাদিস
৪। শবে কদর সম্পর্কে রাসুল (সা.) এর হাদিস
৫। লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব কুরআন ও হাদিসে
৬। লাইলাতুল কদরের নামাজ সম্পর্কে হাদিস
৭। লাইলাতুল কদরের দোয়া সম্পর্কিত হাদিস
৮। লাইলাতুল কদরের আমল নিয়ে সহিহ বুখারি হাদিস
৯। লাইলাতুল কদর ২৭ রমজান হাদিস প্রমাণ
১০। লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সওয়াব নিয়ে হাদিস
১১। লাইলাতুল কদরের রাত কিভাবে চিনবো হাদিস
১২। লাইলাতুল কদর নিয়ে সহিহ বুখারি এর হাদিস
১৩। লাইলাতুল কদর নিয়ে সহিহ মুসলিম এর বর্ণনা
১৪। লাইলাতুল কদরের রাতে কি পড়তে হবে হাদিস
১৫। লাইলাতুল কদরের ফজিলত সহিহ মুসলিম হাদিস
১৬। লাইলাতুল কদরের দোয়া আরবি ও বাংলা হাদিসসহ
১৭। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে মুহাম্মদ (সা.) এর হাদিস
১৮। লাইলাতুল কদর কবে হয় হাদিসের আলোকে
১৯। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হাদিসসহ
২০। লাইলাতুল কদরের ১০০০ মাসের ফজিলত হাদিস
হাদিস নং ১ঃ লাইলাতুল কদর এর ফযীলত
মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘নিশ্চয়ই আমি নাযিল করেছি এ কুরআন মহিমান্বিত রাত্রিতে। আর আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রাত্রি কী? মহিমান্বিত রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। সেই রাত্রে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাদের প্রতিপালকের আদেশত্রুমে অবতীর্ণ হয়। সেই রাত্রি শান্তিই শান্তি, ফজর হওয়া পর্যন্ত।’’ (আল-কদর ১-৫)
হাদিস নং ২ঃ রমজানের শেষের সাত রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নের মাধ্যমে রমাযানের শেষের সাত রাত্রে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হয়। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে। তোমাদের দেখা ও আমার দেখা শেষ সাত দিনের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব যে ব্যক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে। (১১৫৮, মুসলিম ১৩/৪০, হাঃ ১১৬৫, আহমাদ ৪৫৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৫)
হাদিস নং ৩ঃ রমজানের শেষের সাত রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রমাযানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করি। তিনি বিশ তারিখের সকালে বের হয়ে আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ আমাকে লাইলাতুল ক্বদর এর সঠিক তারিখ দেখানো হয়েছিল পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তার সন্ধান কর। আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি ঐ রাতে কাদা পানিতে সিজদা করছি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে (মসজিদ হতে বের হয়ে না যায়)।
আমরা সকলে ফিরে আসলাম এবং থেকে গেলাম। আমরা আকাশে হাল্কা মেঘ খন্ডও দেখতে পাইনি। পরে মেঘ দেখা দিল ও এমন জোরে বৃষ্টি হলো যে, খেজুরের শাখায় তৈরি মসজিদের ছাদ দিয়ে পানি ঝরতে লাগল। সালাত শুরু করা হলে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কাদা পানিতে সিজদা করতে দেখলাম। পরে তাঁর কপালে আমি কাদার চিহ্ন দেখতে পাই। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৬)
হাদিস নং ৪ঃ রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর। (২০১৯, ২০২০, মুসলিম ১৩/৪০, হাঃ ১১৬৯, আহমাদ ২৪৩৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৭)
হাদিস নং ৫ঃ রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসের মাঝের দশকে ই‘তিকাফ করেন। বিশ তারিখ অতীত হওয়ার সন্ধ্যায় এবং (২১) একুশ তারিখের শুরুতে তিনি এবং তাঁর সংগে যাঁরা ই‘তিকাফ করেছিলেন সকলেই নিজ নিজ বাড়িতে প্রস্থান করেন এবং তিনি যে মাসে ই‘তিকাফ করেন ঐ মাসের যে রাতে ফিরে যান সে রাতে লোকদের সামনে ভাষণ দেন।
আর তাতে মাশাআল্লাহ, তাদেরকে বহু নির্দেশ দান করেন, অতঃপর বলেন যে, আমি এই দশকে ই‘তিকাফ করেছিলাম। এরপর আমি সিদ্ধান্ত করেছি যে, শেষ দশকে ই‘তিকাফ করব। যে আমার সংগে ই‘তিকাফ করেছিল সে যেন তার ই‘তিকাফস্থলে থেকে যায়। আমাকে সে রাত দেখানো হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) শেষ দশকে ঐ রাতের তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা তালাশ কর। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, ঐ রাতে আমি কাদা-পানিতে সিজদা করছি। ঐ রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং বৃষ্টি হয়। মসজিদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল একুশ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষে ফিরে বসেন তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমণ্ডল কাদা-পানি মাখা। (৬৬৯, মুসলিম ১৩/৪০, হাঃ ১১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৮)
হাদিস নং ৬ঃ রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তোমরা (লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর। (২০১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৯)
হাদিস নং ৭ঃ রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন এবং বলতেনঃ তোমরা রমাযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর। (২০১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯০)
হাদিস নং ৮ঃ রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তা (লাইলাতুল কদর) রমাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর। লাইলাতুল কদর (শেষ দিক হতে গণনায়) নবম, সপ্তম বা পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকে। (২০২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯১)
হাদিস নং ৯ঃ রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তা শেষ দশকে, তা অতিবাহিত নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল কদর। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে অন্য সূত্রে বর্ণিত যে, তোমরা ২৪ তম রাতে তালাশ কর। (২০২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭৯-১৮৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯২)
হাদিস নং ১০ঃ মানুষের পারস্পরিক ঝগড়ার কারণে লাইলাতুল ক্বাদরের সুনির্দিষ্টতার জ্ঞান তুলে নেয়া
উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের (নির্দিষ্ট তারিখ) অবহিত করার জন্য বের হয়েছিলেন। তখন দু’জন মুসলিম ঝগড়া করছিল। তা দেখে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, তখন অমুক অমুক ঝগড়া করছিল, ফলে তার (নির্দিষ্ট তারিখের) পরিচয় হারিয়ে যায়। সম্ভবতঃ এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তোমরা নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তা তালাশ কর। ২০২৩ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯৩)
হাদিস নং ১১ঃ রমাযানের শেষ দশকের আমল
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রমাযানের শেষ দশক আসতো তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন। (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্র জেগে থাকতেন ও পরিবার পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। ২০২৪ (মুসলিম ১৪/৩, হাঃ ১১৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯৪)
হাদিস নং ১২ঃ কদরের রাত তালাশ সম্পর্কে নবীজি যা বলেছেন
এ রাতটি রমাযানের শেষ দশকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
تَحَرُّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
‘‘রমাযানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’’ (বুখারীঃ ২০২০; মুসলিমঃ১১৬৯)
হাদিস নং ১৩ঃ কদরের রাত তালাশ সম্পর্কে
আর এটি রমযানের বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
تَحَرُّوْا لَيْلَةُ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
‘‘তোমরা রমাযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’’ (বুখারীঃ ২০১৭)
হাদিস নং ১৪ঃ কদরের রাত তালাশ করা
এ রাত রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيْهَا فَلْيَتَحَرِّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ
‘‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) অন্বেষণ করতে চায়, সে যেন রমাযানের শেষ সাত রাতের মধ্য তা অন্বেষণ করে।’’ (বুখারীঃ ২০১৫; মুসলিমঃ ১১৬৫)
হাদিস নং ১৫ঃ কদরের রাত, যে রাতে হতে পারে
রমাযানের ২৭ শে রজনী লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
উবাই ইবনে কাব হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন যে,
وَاللهِ إِنِّيْ لأَعْلَمُ أَيُّ لَيْلَةٍ هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِيْ أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ -صلى الله عليه وسلم- بِقِيَامِهَا هِىَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِيْنَ
আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যে রজনীকে কদরের রাত হিসেবে কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হল রমাযানের ২৭ তম রাত। (মুসলিমঃ ৭৬২)
আব্দুল্লাহ বিন ‘উমার থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
مَنْ كَانَ مُتَحَرِّيْهَا فَلْيَتَحَرِّهَا لَيْلَةَ السَّبْعِ وَالْعِشْرِيْنَ
যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা রমাযানের ২৭শে রজনীতে অনুসন্ধান করে। (আহমাদঃ ২/১৫৭)
হাদিস নং ১৬ঃ লায়লাতুল কদর
আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথীদের কয়েক ব্যক্তিকে লায়লাতুল কদর (রমজান) মাসের শেষ সাতদিনে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখছি তোমাদের সকলের স্বপ্ন শেষ সাত রাতের ব্যাপারে এক। তাই তোমাদের যে ব্যক্তি কদর রজনী পেতে চাও সে যেন (রমজান) মাসের শেষ সাত রাতে তা খুঁজে।
সহীহঃ বুখারী ২০১৫, মুসলিম ১১৬৫, মুয়াত্ত্বা মালিক ১১৪৪, আহমাদ ৪৪৯৯, মু‘জামুল আওসাত ৩৮৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৫৪৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৬৭৫, সহীহ আল জামি‘ ৮৬৭।
হাদিস নং ১৭ঃ লায়লাতুল কদর
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা লায়লাতুল কদরকে (রমজান) মাসের শেষ দশকে সন্ধান করো। লায়লাতুল কদর হলো নবম রাতে (অর্থাৎ- একুশতম রাতে), বাকী দিন হলো সপ্তম রাতে (সেটা হলো তেইশতম রাত), আর অবশিষ্ট থাকল পঞ্চম রাত (আর তা হলো পঁচিশতম) রাত। ২০৮৫
সহীহঃ বুখারী ২০২১, আবূ দাঊদ ১৩৮১, আহমাদ ২৫২০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৫৩৩, শু‘আবূল ঈমান ৩৪০৭, সহীহ আল জামি‘ ১২৪৪।
হাদিস নং ১৮ঃ লায়লাতুল কদর
আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের প্রথম দশ দিনে ইতিকাফ করেছেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি তুর্কী ছোট তাঁবুতে ইতিকাফ করেছেন মধ্যের দশ দিন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মাথা (তাঁবুর বাইরে) বের করে বলেছেন, আমি ’কদর রজনী’ সন্ধান করার জন্য প্রথম দশ দিনে ইতিকাফ করেছি। তারপর করেছি মাঝের দশ দিনে। তারপর আমার কাছে তিনি এসেছেন। মালাক (ফেরেশতা) আমাকে বলেছেন, ’লায়লাতুল কদর’ রমাযানের শেষ দশ দিনে।
অতএব যে আমার সাথে ’ইতিকাফ’ করতে চায় সে যেন শেষ দশ দিনে করে। আমাকে স্বপ্নে ’কদর রজনী’ নির্দিষ্ট করে দেখিয়েছেন। তারপর তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে (অর্থাৎ- জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, অমুক রাতে শবে কদর। তারপর তা কোন রাত আমি ভুলে গিয়েছি)।
(স্বপ্নে) নিজেকে দেখলাম যে, আমি এর ভোরে (অর্থাৎ- লায়লাতুল কদরের ভোরে) কাদামাটিতে সিজদা্ করছি। যেহেতু আমি ভুলে গিয়েছি সেটা কোন্ রাত ছিল। তাই এ রাতকে (রমাযানের) শেষ দশ দিনের মধ্যে সন্ধান করো। তাছাড়াও লায়লাতুল কদরকে বেজোড় রাতে অর্থাৎ- শেষ দশের বেজোড় রাতে সন্ধান করো। বর্ণনাকারী বলেন, (যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেছিলেন) সে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল।
মসজিদের ছাদ খেজুরের ডালপাতার হওয়ায় একুশতম রাতের সকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপালে পানি ও মাটির চিহ্ন ছিল। (এ হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে অর্থের দিক দিয়ে বুখারী ও মুসলিম একমত। অবশ্য এ পর্যন্ত বর্ণনার শব্দগুলো ইমাম মুসলিম উদ্ধৃত করেছেন। আর রিওয়ায়াতের বাকী শব্দগুলো উদ্ধৃত করেছেন ইমাম বুখারী। ২০৮৬
সহীহ: বুখারী ২০২৭, মুসলিম ১১৬৭, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২২১৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৫৬৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৬৮৪।
হাদিস নং ১৯ঃ লায়লাতুল কদর
যে রিওয়ায়াতটি ’আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত, সে বর্ণনা ’২১তম রাতের সকালের’ স্থলে ’২৩তম রাতের সকালে’ শব্দটি আছে। ২০৮৭ (মুসলিম)
সহীহ : মুসলিম ১১৬৮, আহমাদ ১৬০৪৫, সহীহাহ্ ৩৯৮৫।
হাদিস নং ২০ঃ লায়লাতুল কদর
যির ইবনু হুবায়শ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা’বকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার দীনী ভাই ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ বলেন, যে ব্যক্তি গোটা বছর ’ইবাদাত করার জন্য রাত জাগরণ করবে, সে ’কদর রজনী’ পাবে। উবাই ইবনু কা’ব বললেন, আল্লাহ তা’আলা ইবনু মাস’ঊদ এর ওপর রহম করুন।
তিনি এ কথাটা এজন্য বলেছেন, যেন মানুষ ভরসা করে বসে না থাকে। নতুবা তিনি তো জানেন যে, ’কদর’ (রমজান) মাসেই আসে। আর(রমজান) মাসের শেষ দশ দিনের এক রাতে কদর রজনী হয়। সে রাতটা সাতাশতম রাত। এদিকে উবাই ইবনু কা’ব কসম করেছেন এবং ’ইনশা-আল্ল-হ’ বলা ছাড়াই বলেছেন, ’নিঃসন্দেহে কদর রাত (রমাযানের) সাতাশতম রাত’।
আমি আরয করলাম, হে আবূল মুনযির (উবাই-এর ডাক নাম)! কিসের ভিত্তিতে আপনি এ কথা বলেছেন? তিনি বললেন, ঐ আলামাত ও আয়াতের ভিত্তিতে, যা আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। (তিনি বলেছেন), ঐ রাতের সকালে সূর্য উদয় হবে, কিন্তু এতে কিরণ বা আলো থাকবে না। (মুসলিম)
হাদিস নং ২১ঃ লায়লাতুল কদর
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান (রমজান) মাসের শেষ দশ দিনে যত ’ইবাদাত বন্দেগী (মুজাহাদাহ্) করতেন এতো আর কোন মাসে করতেন না। ২০৮৯
সহীহ: মুসলিম ১১৭৫, তিরমিযী ৭৯৬, ইবনু মাজাহ ১৭৬৭, আহমাদ ২৬১৮৮, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২২১৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৪৬১, সহীহাহ্ ১১২৩, সহীহ আল জামি‘ ৪৯১০
হাদিস নং ২২ঃ লায়লাতুল কদর
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশ দিন এলে ’ইবাদাতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন। রাত জেগে থাকতেন, নিজের পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। ২০৯০
সহীহ: বুখারী ২০২৪, মুসলিম ১১৭৪, সহীহ আল জামি‘ ৪৭১৩, আবূ দাঊদ ১৩৭৬, নাসায়ী ১৬৩৯, ইবনু মাজাহ ১৭৬৮, আহমাদ ২৪১৩১, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২২১৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৪৬০, ইবনু হিব্বান ৩৪৩৭।
হাদিস নং ২৩ঃ শবে কদর
ইবনে মাজাহ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হযরত রাসূল (সা.) বলেন, যে লোক শবে কদর থেকে বঞ্চিত হয় সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হল। আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই। কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম, হাদিস নং : ১১৬৭)।
হাদিস নং ২৪ঃ শবে কদর তালাশ নিয়ে
একদা হযরত উবায়দা (রা.) নবী করীম (সা.) কে লাইলাতুল কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবীজী সেই সাহাবিকে বললেন রমজানের বেজোড় শেষের দশ দিনের রাতগুলোকে তালাশ করো। (বুখারি, হাদিস নং: ২০১৭)।
হাদিস নং ২৫ঃ শবে কদর তালাশ নিয়ে হাদিস
রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ করো। (মুসলিম, হাদিস নং: ১১৬৯)
হাদিস নং ২৬ঃ শবে কদর তালাশ নিয়ে
মিশকাত শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারি, হাদিস নং: ৬৭২)।
হাদিস নং ২৭ঃ লায়লাতুল কদর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় সওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। সুলায়মান ইবনু কাসীর (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৪)
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমের সূরা ক্বদরে ঘোষণা করেছেন লাইলাতুল ক্বদর হাজার মাসের ইবাদাতের চেয়েও উত্তম। সহীহ শুদ্ধ হাদীস থেকে জানা যায় যে, লাইলাতুল ক্বদর রমাযানের শেষ দশ দিনের যে কোন বিজোড় রাত্রিতে হয়ে থাকে। বিভিন্ন সহীহ হাদীসে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখে লাইলাতুল ক্বদর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখিত আছে। হাদীসে এ কথাও উল্লেখিত আছে, যে কোন একটি নির্দিষ্ট বিজোড় রাত্রিতেই তা হয় না। (অর্থাৎ কোন বছর ২৫ তারিখে হল, আবার কোন বছর ২১ তারিখে হল এভাবে। আমাদের দেশে সরকারী আর বেসরকারীভাবে জাঁকজমকের সঙ্গে ২৭ তারিখের রাত্রিকে লাইলাতুল ক্বদরের রাত হিসেবে পালন করা হয়। এভাবে মাত্র একটি রাত্রিকে লাইলাতুল ক্বদর সাব্যস্ত করার কোনই হাদীস নাই। লাইলাতুল ক্বদরের সওয়াব পেতে চাইলে ৫টি বিজোড় রাত্রেই তালাশ করতে হবে।
বর্তমানে রাত্রি জাগরণের জন্য মসজিদে সকলে সমবেত হয়ে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের যে ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে সেটিও নবাবিষ্কৃত কাজ। কারণ আল্লাহর নাবী (সাঃ) তাঁর সময়ে সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে জাগরিত হয়ে বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে ইবাদাত না করে নিজ নিজ পরিবারকে জাগিয়ে কিয়ামুল লাইল পালন করতেন।

Post a Comment
0 Comments